ব্রেকিং নিউজ

মামলা করলে মেয়েকে হারাবি, ৮ দিন পর মামলা নিলো পুলিশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, গুড়ায় কলেজছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় ৮ দিন পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। গত ২২ সেপ্টেম্বর জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার পল্লীতে এঘটনা ঘটে।
গত ১ লা অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ডের পর একজনকে গ্রেফতার করলেও অপহৃত কলেজছাত্রীকে উদ্বার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতামাজগ্রাম ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামের ওমর ফারুকের মেয়ে ফৌজিয়া আকতার (১৬) স্থানীয় হাটকড়ই কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী। কলেজে আসা-যাওয়ার প্রাক্কালে দীর্ঘদিন ধরেই ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতো থালতামাজগ্রাম ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের মোস্তফা কামাল (২০) নামের এক বখাটে। বিষয়টি ওই বখাটের পরিবারকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মোস্তফা। চড়থাপ্পড় দিয়ে বিষয়টি সমাধান হয়। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে বেশ কয়েকবার কলেজছাত্রী ফৌজিয়ার পথরোধ করে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বখাটে।

কলেজছাত্রীর পরিবারের দাবি, প্রতিশোধ নিতেই ফৌজিয়াকে অপহরণ করেছে ওই বখাটে।

কলেজছাত্রীর পিতা ওমর ফারুক বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে আমার কন্যাকে অপহরণ করে ওই বখাটে সহ ৫/৬জন। ২৩ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ বিষয়টি আমলে নেয়নি। থানার ওসি সাহেব তালবাহানা করছিল। এরপর গোয়েন্দা বিভাগ ডিবিতে অভিযোগ করি। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞাকে বিষয়টি জানালে ১ লা অক্টোবর নন্দীগ্রাম থানায় মামলা (নং ১) রেকর্ড করে। বখাটে মোস্তফা কামাল, মন্টু মিয়া, আব্দুল ওয়াজেদ সহ ২/৩ জন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে একজনকে ছেড়ে দেয়। অপহরণের ১০ দিনেও আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

ওই কলেজছাত্রীর পিতা আরও বলেন, অপহরণের পর ওই বখাটের পরিবারকে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য চাপ দিলে তাঁরা উল্টো হুমকি দিয়ে বলে, মামলা করলে মেয়েকে হারাবি! এখন মামলা দায়ের হবার পর বলছে, মামলা আপস না করলে তোর মেয়েকে ফিরে পাবিনা।

এপ্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আজিজুর রহমান মুঠোফোনে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, মামলা দায়েরের পর একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপহৃত কলেজছাত্রীকে উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চলছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *