পুলিশ হতে পারে মানুষের প্রকৃত বন্ধু! প্রমান দিলেন পুলিশ অফিসার এএসআই মিঠুন সেন

রাকিবুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:

একটি দেশের কোনো থানায় বা জেলায় চারিদিকে যখন অপরাধ দিনদিন বাড়তেই থাকে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হয়। খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই রাহাজানি, চাঁদাবাজি প্রকাশ্য দিবালোকে শুরু হয়। কোন মতেই প্রশাসন যখন তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ঠিক তখনই ওই থানায় বা জেলায় দুর্দান্ত সাহসী ও সৎ পুলিশ অফিসার পাঠানো হয়।

আর ওই পুলিশ অফিসার তার সৎ সাহসকে পুঁজি করে জনগণের শান্তির জন্য দিনরাত এক করে সকল অন্যায়কেন বিতাড়িত করে সন্ত্রাস দমনে সফল হয়। বলছিলাম চলচ্চিত্রের কাহিনীর কথা যেমনটা আমরা প্রায়ই সিনেমায় দেখে থাকি পুলিশের ভূমিকায় নায়কের অভিনয়।

একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ হিসেবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে শত বাধা অতিক্রম করে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এমনটা শুধুমাত্র সিনেমাতেই দেখে থাকি। বাস্তবে পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।

পুলিশের নাম শুনতেই জণসাধারণের মনে ভালো-মন্দের এক বিরাট দেওয়াল তৈরী হয়। অনেকেই নাক ছিটকানো শুরু করে। সারাজীবন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি দেখে আমাদের অনেকের জ্ঞান হয়তো প্রচন্ড- ঝাঁকুনি খায়। কিন্তু পুলিশবাহিনীতেও রয়েছে কিছু অফিসার যারা নিজেদের জীবন সাধারণ মানুষের সেবাই উৎসর্গ করে দিয়েছে। তারা রীতিমত জনসেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। আইনের সহযোগিতা সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌছিয়ে দিতে যাদের অসামান্য অবদান রয়েছে।

যারা পুলিশে যোগদান করেছেন শুধু মাত্র সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য। লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে ন্যায়ের পথে জীবন বাজি রাখা এমনই একজন পুলিশ অফিসারের নাম এএসআই মিঠুন সেন। সে দিনাজপুর জেলার কতোয়ালী সদর থানার সুইহারী আশ্রম পাড়ায় এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শ্রী রাধেশ সেন। তিনিও একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর, তিনি বর্তমানে বগুড়া পুলিশ লাইনে কর্মরত আছেন।

এএসআই মিঠুন সেন চাকুরী জীবনের শুরুতে Armed Police Battalion (APBn) হেডকোয়ার্টার্স দীর্ঘ ১০ বছর কর্মরত ছিলেন।

বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কুন্দারহাট হাইওয়ে থানায় কর্মরত আছেন। তিনি হাইওয়ে থানায় যোগদান করার পর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কুন্দারহাটের প্রতিটি মানুষের কাছে এএসআই মিঠুন সেন একটি ন্যায়পরায়ন আদর্শবান পুলিশের নাম। এই পুলিশ কর্মকর্তা শুধুমাত্র মানুষের সেবা করতে পারলেই মহাখুশি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থেকে মানুষের সেবা করাই তার স্বপ্ন।

গত শনিবার বগুড়া- নাটোর মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সম্পর্কে জনসাধারণ, গাড়ীর চালক ও মালিকদের সতর্কীকরণ লিফলেট বিতরণ করেন।

এএসআই মিঠুন সেন সম্পর্কে চালক মেহেদী হাসান, শেরপুর নিবাসী আশরাফ আলী, সিংজানী গ্রামের রাব্বী হাসান, বিশা গ্রামের মাহিম হাসান, কুন্দারহাটের চা দোকানী শহিদুল ইসলাম, স্টেশন মাষ্টার আব্দুল মান্নান, বীরগ্রামের স্টেশন মাস্টার আইয়ুব আলী, কনস্টেবল ফরিদুল ইসলাম, আবীর হোসেনসহ এরা সবাই জানান মিঠুন স্যারের ব্যবহার ও আচরণ খুবই ভালো।

জানতে চাইলে ৫ নং ভাটগ্রাম ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান জানান, নতুন অফিসার মিঠুন স্যার খুব ভালো মানুষ। তার মতো অফিসার পেয়ে কুন্দারহাটবাসী ধন্য।

মিঠুন সেন সম্পর্কে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতপক্ষে একজন পুলিশ কর্মকর্তাই পারে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে আর সেই প্রতিভাটি মিঠুন সেন এর মধ্যে আছে। সে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে কখনো অনীহা প্রকাশ করেনি। তার মতো আরো পুলিশ অফিসার যেন আমাদের হাইওয়ে থানায় যোগদান করে।

ইনচার্জ জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, মানুষ পুলিশকে গালমন্দ করে সামান্য বিপদে পড়লেই কিন্তু এই পুলিশের শরাণাপন্ন হতে হয়। পুলিশ নিজে সারা রাত জেগে অন্যের ঘুমের সু-ব্যবস্থা করে। খুব সম্ভবত এটিই পৃথিবীর একমাত্র প্রফেশন যেটিতে ২৪ ঘন্টা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকতে হয়। দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কাজেই রাষ্ট্রযন্ত্রকেও এই বাহিনীর যথাযোগ্য মর্যাদার কথা বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ করে যারা সততা ও ন্যায়ের সাথে নিজেদের কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে আমরাও চাই দেশের প্রতিটি পুলিশ সৎ, সাহসী ও ন্যায়নিষ্ঠাবান হোক। মানুষের সেবাই হোক পুলিশের প্রথম ও প্রধান এবং একমাত্র আদর্শ।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *