ব্রেকিং নিউজ

তুরস্কের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে অভিযানের নামে তুরস্ক ‘সীমা অতিক্রম’ করলে তাদের অর্থনীতি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেন, সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতেই তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা।

এদিকে তুরস্কের অভিযান চালানোর ঘোষণার পর ওই অঞ্চল থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টি থেকেও এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর একের পর এক টুইট বার্তায় সিরিয়ার ওই এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া তার সিদ্ধান্তের সুযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে তুরস্ককে সতর্কও করে দিয়েছেন।

এ সম্পর্কে এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, অভিযানের নামে ‘সীমা অতিক্রম’ করলে তুরস্কের অর্থনীতিকে তিনি ধ্বংস ও বিলুপ্ত করে দিতে পারেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিয়াজুড়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের যে হাজারখানেক সেনা আছে তার মধ্যে তুরস্কের সীমান্ত এলাকা থেকে মাত্র দুই ডজন সেনা প্রত্যাহার হয়েছে।

এদিকে কুর্দি নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন যে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পুনরুত্থান ঘটতে পারে। এছাড়া এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে বলে আশঙ্কা তাদের।

তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ফলে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা আঙ্কারার সাঁড়াশি আক্রমণের শিকার হতে পারে।

এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো সীমান্ত এলাকায় কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই করা আর তুরস্কে বসবাসরত ৩৬ লাখ সিরীয় শরণার্থীর মধ্যে ২৬ লাখ শরণার্থীর জন্য একটি নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলা।

সিরিয়ায় বর্তমানে এক সহস্রাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা আইএসবিরোধী লড়াইয়ে সিরিয়ার আসাদ বিরোধী বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজ করছে। প্রায় ১০ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলা সিরিয়া থেকে এর আগে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *