ব্রেকিং নিউজ

৪ বছর ধরে ইজারা মূল্যসহ ভ্যাট ও আয়করের ১৩ লাখ টাকা বকেয়া

 

মেহেদী হাছান উজ্জল,

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক এর বিরুদ্ধে সেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ শ্যালকের নামে বাঁকিতে পৌর হাট-বাজার ইজারা প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ বছর থেকে বাঁকি রয়েছে ইজারামূল্যসহ সরকারের ভ্যাট ও আয়করের ১৩ লাখ টাকা। এখোনো পর্যন্ত কোনো ব্যাবস্থা গ্রহন করেননি।

ইজারাদার মেয়রের শ্যালয়ক হওয়ায় ইজারা মূল্যসহ সরকারের ভ্যাট ও আয়করের টাকা আদায়ের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারছেনা পৌরসভার কর্মকর্তাগণ।
পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে গত বাংলা ১৪২১ সালে পৌর বাজার ইজারা গ্রহন করে পৌর মেয়রের স্ত্রীর মামাতো ভাই পুর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের মুকুলের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সাদমান।
সেই সময় পৌর বাজারের ইজারা মূল্য ১৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা, সরকারী ভ্যাট ১৫% ২ লাখ ৮৯ হাজার ৫০ টাকা ও আয়কর ৫৭ হাজার ৮১০ টাকা পরিশোধ করার নিয়ম থাকলেও, পৌর মেয়র কেবলমাত্র জামানত বাবদ ২৫% টাকা গ্রহন করে, আব্দুল্লাহ আল সাদমানকে পৌর বাজার ইজারার চুক্তি করে, ইজারাদার আব্দুল্লা আল সাদমান সারা বছর ধরে ইজারামূল্য ও আয়করের টাকা পরিশোধ করলেও, সরকারের ১৫% ভ্যাট ২ লাখ ৮৯ হাজার ৫০ টাকা আজো পরিশোধ করেনি।

একই ভাবে বাংলা ১৪২২ সালে মেয়রের আরেক শ্যালক পুর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের মৃত রেজাউল করিমের ছেলে হুমায়ুন করিব রুমু, ২৫ লাখ ৮১ হাজার টাকায় পৌর বাজার ইজারা গ্রহন করে, সেই সময়েও মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক সরকারী ভ্যাট ও আয়করের টাকা গ্রহন না করে শুধুমাত্র ২৫% জামানতের টাকা গ্রহন করেই হুমায়ুন কবির রুমুকে পৌর বাজারের ইজারা প্রদান করেন। হুমায়ুন কবির রুমু সারা বছরে ইজারা মূল্যের মধ্যে জামানতসহ ২২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ইজারা মূল্যের বাকি ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা, সরকারী ভ্যাট ১৫% ৩ লাক ৪৭ হাজার ১৫০ টাকা ও আয়কর ৩% ৬৯ হাজার ৪৩০ টাকা এখন প্রর্যন্ত পরিশোধ করেননি।

একই বছর হুমায়ুন কবির রুমু কৌশলে তার আপন ছোট ভাই ( বধির ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধি) আহম্মেদ রেজার নামে পৌর হাট বাজারের লোড-আনলোড ইজারা গ্রহন করে। সেই সময় ইজারা মুল্য ৩ লাখ ২১ হাজার টাকার মধ্যে জামানতসহ ৯৭ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও, ইজারা মুল্যের ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা, সরকারী ভ্যাট ১৫% ৪৮ হাজার ১৩১ টাকা ও আয়কর ৩% ১৬ হাজার ৫০ টাকা আজো পরিশোধ করেনি। বর্তমানে হুমায়ুন কবির ও তার প্রতিবন্ধি ভাই আহম্মেদ রেজার নিকট ইজারা মূল্য বাবদ ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও ১৪২১ ও ১৪২২ সালের মোট সরকারী ভ্যাট আয়কর বাবদ ৭ লাক ৬৯ হাজার ৮১১ টাকা মেয়রের শ্যালকদের নিকট বাকি রয়েছে।

এদিকে পৌর বাজারের ইজারা মূল্য কয়েক লাখ টাকা বাকি থাকলেও, রাজস্ব্যর অভাবে কয়েক মাস থেকে বেতন পায়নি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পৌর সভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার সত্বে বলেন, পৌর মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক পৌরসভার রাজস্ব্য ভেঙ্গে বৈশাখী মেলা করছেন, শ্যালকের নিকট লাখ লাখ টাকা বাঁকি রেখেছেন, কিন্তু পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছেন না, এক কর্মচারী বলেন গত ৪ মাস থেকে বেতন না পেয়ে তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জিবন যাপন করলেও, মেয়রের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেনা।
পৌর সচিব মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইজারাদার হুমায়ুন কবির রুমুর বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মেয়রের অনুমতির চেয়ে ফাইলে নোট দেয়া হয়েছে কিন্তু মেয়র অনুমতি না দেয়ায় মামলা করা হয়নি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, এর পুর্বেও সাবেক মেয়র শাহাজাহান আলী সরকার বাঁকিতে তোজাম্মের হক নামে এক ব্যাক্তিকে হাট-বাজার ইজারা দিয়েছিল সেই টাকাও এখন পর্যন্ত আদায় হয়নি, তবে ইজারাদার হুমায়ুন কবির রুমুর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। বুদ্ধি প্রতিবন্ধি আহম্মেদ রেজাকে কিভাবে হ্াট ইজারা দিয়েছেন, এই প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
ইজারাদার হুমায়ুন কবির রুমুর নিকট এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাকির কথা স্বীকার করে বলেন তার নিজের কিছু ব্যবসায়ীর ঝামেলার জন্য সময় মত ইজারামূল্য ও সরকারের ভ্যাট আয়করের টাকা পরিশোধ করতে পারেনি।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন হাট-বাজার ইজারা প্রদান আইন অনুযায়ী, ইজারার দরপত্র যাচাই-বাছাই কমিটি দরপত্র যাছাই-বাছাই করে সর্ব-উচ্চ দরদাতা নিদ্ধারন করে, পৌর মেয়রের নিকট অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করবে। সেই সময় ইজারাদার ইজারা মুল্যর জামানত বাদে, বাকি টাকাসহ সরকারের ভ্যাট ও আয়করের টাকা পরিশোধ করলে সেই দরপত্র দাতাকে ইজারা প্রদান করবেন। যদি দরপত্র দাতা সময়মত ইজারামুল্য ও সরকারের নিদ্ধারীত ভ্যাট ও আয়করের টাকা পরিশোধ করতে ব্যার্থ হয়, তাহা হইলে দরপত্র দাতার জামানত বাজেয়াপ্ত করে দ্বিতীয় দরপত্র দাতার নামে একই নিয়োমে ইজারা প্রদান করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন যদি সরকারী ভ্যাট ও আয়করের টাকা পরিশোধ না নিয়ে, মেয়র পৌর হাট-বাজার ইজারা প্রদান করেন, তা সেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গন্য হবে, এর জন্য মেয়রকে আইন অনুযায়ী দায়দায়িত্ব বহন করবে।

 

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *