৩ মার্চ ২০১৩ বগুড়ার ইতিহাসে একটি ভয়াল বেদনার্ত মর্ম পীড়াদায়ক, কলঙ্কিত দিন।

৩ মার্চ ২০১৩ বগুড়ার ইতিহাসে এক

Image may contain: 2 people, people standing, crowd and outdoor

টি ভয়াল বেদনার্ত মর্ম পীড়াদায়ক, কলঙ্কিত দিন। গভির রাত্রে জনজীবনে যখন ঘুমের প্রশান্তি। ঠিক তখনি যুদ্ধাপরাধী ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সাইদীকে চাঁদে দেখা গেছে মিথ্যা কাল্পনীক এবং বানোয়াট গুজব রটিয়ে একদল অমানুষ, হায়েনা, হিংস্র ভালো মানুষের মুখোশ পড়া স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি দানবিয় রুপ ধারণ করে নিরিহ নারী শিশুদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে হালাকু খান ও চেঙ্গিস খানের মতন গোটা বগুড়ার স্বাধীনতাকামী মানুষের জানমাল ধ্বংস করার জন্য উন্মাদের ন্যায় বাড়ি-ঘর, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করতে থাকে। পরিকল্পিতভাবে গোটা বগুড়া জেলায় লক্ষাধিক হিংস্র উন্মাদ নারী-পুরুষ সশস্ত্র অবস্থায় একযোগে পুলিশের বিভিন্ন ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, থানা, আওয়ামীলীগসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের নেতা কর্মীদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার পাশাপাশি করোতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস, এসএ পরিবহন, এটিএন শোরুমে ভাংচুর এবং অগ্নি সংযোগ করে। এর বাইরেও শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর এবং লুটপাট চালায়। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব মমতাজ উদ্দিন এর বাড়ি পেট্রোল এবং গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অল্পের জন্য মহান আল্লাহতালার রহমতে তিনি পরিবারসহ প্রাণে বেঁচে যান। আগুন দেওয়া হয় জনাব আব্দুল মান্নান

এমপির বাসায়। বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় এবং পার্টি অফিসেও ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের হানাদারদের ন্যয় তারা একযোগে একই সময়ে নন্দিগ্রাম থানা, দুপচাচিয়া থানা, নওগাঁ সদর থানা, গাবতলী থানা এবং শাহজাহানপুর থানায় সম্পূর্ন বেআইনী এবং নগ্নভাবে হামলা চালায়। সকল পথের গাছপালা কেটে এবং ইলেকট্রিক পোল দিয়ে শহরের রাস্তায় এবং মহাসড়কে ব্যরিকেড় দিয়ে পুলিশের যানবাহনের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। থানাগুলোতে পুলিশের প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখিন হয়ে তারা নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদসহ

Image may contain: one or more people, crowd and outdoor

অন্যান্য সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘর এবং অফিস আদালতে ব্যপক অগ্নি সংযোগ, ভাংচুর এবং লুটপাট করে। এমনকি তারা বেছে বেছে আমাদের গৌরবের প্রতিক জাতীয় পতাকায় অগ্নি সংযোগ করে। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল পুলিশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি আক্রমন ও লুটপাট করে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে অস্ত্র সংগ্রহ করা। তাদের আরো উদ্দেশ্যে ছিল বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বর্ণের দোকান লুটপাট করে বিপুল পরিমানের অর্থ সংগ্রহ করা। এমনকি এই হায়েনার দল ফুলবাড়ি ফাঁড়িতে গ্যাসের লাইনে অগ্নি সংযোগ করে দোতলায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। তাদের আরেকটা উদ্দেশ্যে ছিল ব্রিজগুলো ধ্বংস করে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গকে বিচ্ছিন্ন করে সরকার কে চাপে ফেলে যুদ্ধাপরাধিদের মুক্ত করা। কিন্তু সেদিন বগুড়ার দেশপ্রেমিক পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য্য, ত্যাগ এবং অসিম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সরকারি সম্পদ এবং জনগনের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি কঠোরভাবে এই অপশক্তিকে মোকাবেলা করে সকাল ০৮ ঘটিকার পূর্বেই বগুড়া থেকে বিতারিত করতে স্বক্ষম হয়েছিল। আমি এই দিনে গভির কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি ডিআইজি জনাব জামিল স্যারকে যিনি দুপুরের মধ্যেই সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া জেলা পুলিশকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। তার নিয়ন্ত্রনাধীন র‌্যাব সদস্য এবং বগুড়া জেলা পুলিশের সকল সদস্যের সহযোগিতায়

২৪ ঘন্টার মধ্যে সড়ক এবং

Image may contain: 1 person, outdoor

রেল যোগাযগ সচল করা হয়। এই সকল ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ এবং লুটপাটের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান শুরু করা হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে পুলিশের সকল ফাড়ি নতুন উদ্যোমে কার্যক্রম শু

রু করে। এই দিনে বীরোত্ত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তদানিন্তন বগুড়ার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ শহিদ আলম, ডিবির ইন্সপেক্টর মিজান, শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহামুদুল, গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আহম্মেদ হাসমী, শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর মিজান,টিআই ই মিরাজ, সাব-ইন্সপেক্টর আনোয়ার, সাব-ইন্সপেক্টর ছানোয়ার, ডিবির সাব-ইন্সপেক্টর আরিফ SI মনজু, তদানিন্তন Addlsp সায়েম, ওয়ারিশ, এএসপি সদর সার্কেল মোকবুল হোসেন, এএসপি বি সার্কেল

আশরাফসহ অগনিত পুলিশ সদস্যদের অবদান চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে। পুলিশ ঐ দিন আমার চেইনঅপ কমান্ডে প্রচন্ড ধৈর্য্য এবং অসীম সাহসীকতা

র পরিচয় না দিলে বগুড়ার ঐদিনের ইতিহাস অন্যরকম হতে পারতো। দেশের আইন শৃংখলা বাহিনী বিশেষত পুলিশ দেশের নিরাপত্তা,স্বাধীনতা এবং সর্বভৌমত্বের প্রতিক। সেদিন ১৯৭১ সালের হানাদার বাহিনীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনের হামলার ন্যয় তাদের প্রথম আক্রমনের লক্ষবস্তু ছিল বগুড়ার পুলিশের সকল থানা, ফাঁড়ি এবং তদন্ত কেন্দ্র। এই পরিকল্পিত জঘন্য হামলা এতই ঘৃন্য ছিল যে, অনাকাঙ্খিত কিছু জানমালের ক্ষয় ক্ষতির পরেও এই হামলার দায় আজ পর্যন্ত কেউই স্

Image may contain: one or more people

বীকার করেনি। তবে সকলেই জানেন এটি ছিল স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির নগ্ন পৈশাচিক হামলা। স্বল্প সময়ের মধ্যে অপ

শক্তিকে পরাস্ত করে বগুড়ার জনজীবনে সস্তি আনতে পারায় মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এতদপ্রসংগে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোয়ার আলম, এডিএম মোহাম্মদ আলী, ডিআইজি জনাব মীর শহীদ আলম, বিভাগীয় কমিশার জনাব আব্দুল মান্নান,মমতাজ ভাই, স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র-শিক্ষক, সংস্কৃতি সেবী, দলমত নির্বিশেষে বগুড়ার শান্তিকামী সাধারণ মানুষ বিশেষত প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বন্ধুদের নির্মোহ অকুন্ঠ সমর্থন আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রা

খবো। মহান আল্লাহ রাববুল আলআমিনের নিকট প্রার্থনা শুধু বগুড়া নয় বাংলাদেশে আর কোথাও যেন স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি দ্বারা

মিথ্যা, বানোয়াট, গুজবের উপর ভিত্তি করে ধ্বংসযজ্ঞ না ঘটে। ইনশাআল্লাহ দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি শান্তিকামী ও উন্নয়নকামী মা

Image may contain: 3 people, people standing and outdoor

নুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ আগামী দিনে যেকোন সন্ত্রাস, নাশকতা বা অরাজকতা ব্যর্থ করে দিয়ে আমাদের দেশ কে শান্তিপূর্ণ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত করবে।

+17

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *