শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষিকার দু’হাত ভেঙে দিল বখাটে

 

অনলাইন ডেস্কঃ’প্রেমের প্রস্তাব’ প্রত্যাখ্যান করায় শ্রেণিকক্ষে ঢুকে লোহার রড ও খুন্তি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিঠিয়ে এক শিক্ষিকার হাত ভেঙে দিয়েছে বখাটে।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভূর্ষি পূর্ব ডেঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত স্কুলশিক্ষিকার নাম মিসফা সুলতানা (২৫)। তিনি উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের নাইখাইন গ্রামের ফজু সওদাগর বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ মেয়ে এবং পূর্ব ডেঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

গুরুতর আহত স্কুলশিক্ষিকা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হামলাকারী বখাটে আহসান উল্লাহকে (৩৩) স্থানীয়রা আটক করে পটিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

এদিকে বখাটে যুবকের শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌর সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

স্কুলের শিক্ষক, স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্কুলশিক্ষিকা মিসফা সুলতানা উপজেলার পূর্ব ডেঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১১ সাল থেকে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

বেশ কিছুদিন ধরে পূর্ব ডেঙ্গাপাড়া এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে বখাটে আহসান উল্লাহ ওই স্কুল শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত মিসফাকে। সকাল-দুপুর বিদ্যালয়ের আশপাশে ঘুরঘুর করত এই বখাটে।

গত বুধবার বিদ্যালয়ে এসে স্কুলশিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়।এর এক সপ্তাহ না যেতেই বখাটে আহসান উল্লাহ মঙ্গলবার সকালে অতর্কিত এসে ক্লাস রুমে ঢুকে শিক্ষিকা মিসফা সুলতানাকে লোহার রড ও খুন্তি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে।

শিশুদের পড়ানোর সময় এ ঘটনা ঘটায় বখাটে আহসান উল্লাহ। এসময় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চিৎকার শুরু করে।

ওই শিক্ষিকা হামলা থেকে বাঁচতে ক্লাস থেকে বের হয়ে মাঠে চলে এলে বখাটে আহসান উল্লাহ তাকে মাঠের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ধাওয়া করে মারতে থাকলে ওই শিক্ষিকা স্কুলমাঠেই লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনা আকস্মিকতায় স্কুলের অন্য শিক্ষিক-শিক্ষিকারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে স্কুলের শিক্ষক এবং আশপাশের লোকজন এসে বখাটে আহসান উল্লাহকে আটক করেন।

পরে শিক্ষিকা মিসফা সুলতানাকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া হাসপাতালে পরে সেখান থেকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তার দুই হাত ভেঙে গেছে।

চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে দুই হাতে আঘাতের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন স্কুল শিক্ষিকা মিসফা।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামাল উদ্দীন বলেন, স্কুলশিক্ষিকার দুই হাত ভেঙে গেছে। শরীর বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘হঠাৎ করেই বখাটে যুবক এসে স্কুলশিক্ষিকাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।’

পটিয়া থানার ওসি শেখ মুহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, ‘এ ঘটনায় বখাটে যুবক আহসান উল্লাহকে আটক করা হয়েছে।  মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *