শেরপুরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী হামলায় আহত কৃষক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সন্ত্রাসীদের ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পাচ্ছেন না

আবু জাহের, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত কৃষক আলমগীর হোসেন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের মাদলবাড়িয়া গ্রামের গোলাম হোসেন মন্ডলের ছেলে। সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কৃষক আলমগীরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে এই সন্ত্রাসী হামলার বিচার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তৃতায় কৃষক আলমগীর হোসেনের মেয়ে লাভলী আক্তার উক্ত ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেন। লাভলী আক্তার বলেন, মাদলবাড়িয়া গ্রামের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করেন ভোলা মন্ডলের ছেলে দেলবর হোসেন। প্রতিবাদ করায় আমার বাবা আলমগীর হোসেনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এমনকি একাধিক মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়। গেল ২৮ফেব্রুয়ারি এসব মামলায় হাজিরা দিতে বগুড়ায় যান তিনি। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে ওইদিন বিকেল অনুমান ৫টার দিকে তার ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষ দেলবরের ভাড়াটে সন্ত্রাসী রুবেলের নেতৃত্বে ১৫-২০জন সশস্ত্র ব্যক্তি আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠ এলাকায় তার ওপর হামলে পড়ে। ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে তার মাথা ও শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়। এসময় আমার চাচা আব্দুর রহিম এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এমনকি তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে মৃত ভেবে বাবা আলমগীরকে উক্ত স্থানে ফেলে রেখে যায় তারা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আরও বলেন, এরপরও দেলবর ও তার বাহিনীর সদস্যরা ক্ষান্ত হয়নি। আমার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে করে আমি ও আমার মা, ছোট দুই ভাই, দাদি চরম নিরাপত্তহীনতায় ভূগছি। এসব সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপরও হামলা চালাতে পারে এমন শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছি। এ অবস্থায় আইনের আশ্রয় নিতেই সাহস পাচ্ছেন বলেও জানান লাভলী আক্তার। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দেলবর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *