শিবগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ অনুপোযোগি কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা সংশ্লিষ্টদের


রশিদুর রহমান রানাঃ শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনার অনুপোযোগি পরিবেশ সৃষ্টি, বিদ্যালয়ের বারান্দায় চলছে হাটের আলুসহ বিভিন্ন পন্যের ব্যবসা, খেলার মাঠে মালবাহী ট্রাক।
শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের অদূরে শিবগঞ্জ হাট সংলগ্নে ১৯৫০ সালে স্থাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী শিবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বর্তমান পর্যন্ত বিদ্যালয়টি উপজেলার মধ্যে আশানোরূপ ফলাফল অর্জন করে আছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে ৮ জন শিক্ষকের মাধ্যমে। বিদ্যালয়ের সাথেই শিবগঞ্জ হাট অবস্থিত হওয়ায় হাটের দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য থাকা মাঠে মালবাহী ট্রাক রাখা হয়। এমনকি বিদ্যালয়ের বারান্দায় পর্যন্ত আলুসহ বিভিন্ন পন্যের বস্তা রাখা হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ বিদ্যালয়টিতে একটি ভালো ল্যাট্রিন ব্যবস্থাও নাই, নেই কোন টিউবওয়েলও। একটিমাত্র বাথরুম, সেটাতেও আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সেই একটি মাত্র ল্যাট্রিনই ব্যবহার করতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। পানি ব্যবস্থার জন্য থাকা একটি মাত্র টিউবওয়েলও মাঝে মাঝেই অকেজো হয়ে পড়ে। এছাড়াও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শ্রেণিপাঠও ঠিকমতো সম্ভব হয় না।
বিদ্যালয়টির এরকম নানাবিধ সমস্যায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার স্বাভাবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দিন দিন তাদের সহপাঠিরা বিদ্যালয়ে আসায় বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে করে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীরা বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ক্লাশে ধুলাবালি সহ আশেপাশের হৈ চৈ এ আমাদের ক্লাশ করতে সমস্যা হয়, এছাড়া টিফিনের সময়ে আমরা মাঠে খেলাধুলাও করতে পারি না।
এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নান্নু মিয়া জানান, আমরা হাট কর্তৃপক্ষকে বার বার এব্যাপারে বললেও তারা কোন কর্ণপাত করে না। আমরা বাধ্য হয়ে হাটের দিনগুলোতে মর্ণিং শিফটে ক্লাশ নিচ্ছি। বিদ্যালয়ের বারান্দায় লোহার বেষ্টুনী দিলে হয়তো শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ কিছুটা হলেও ফিরে আসবে, আমি এব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান অভিযোগগুলো স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয় সংস্কারের ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *