যৌনতার প্রতি আসক্ত করে তুলছে যে দেশগুলো

অনলাইন ডেস্ক: যৌনতা নিয়ে ঢাকা-চাপা দেওয়ার প্রবণতা এখনও বিভিন্ন সমাজে বিরাজমান। কিন্তু মানুষের জীবনের আর পাঁচটা বিষয়ের মতোই অপরিহার্য হল যৌনতা। কারণ শুধু দুই সঙ্গীর শারীরিক তৃপ্তিই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক বিষয়। সুস্থ স্বাভাবিক যৌনতা যেমন মানুষের জীবনে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে, তেমনই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। যার উপর নির্ভর করে কোনও দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা।

একটি সমীক্ষায় জানা যায়, এখনও বিশ্বের কোন কোন দেশে যৌনতার অভাব রয়েছে। সেই সব দেশের মানুষের মধ্যে যৌনমিলনের হার বাড়াতে হবে।

জাপান : একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৫-এর পর থেকে জাপানে জন্মের হার লাগাতার নিম্নগামী। যা দেশের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে একেবারেই সুখকর নয়। যে দেশে একগুচ্ছ পর্ন ওয়েবসাইট রয়েছে, সেখানে যৌনতার হার মোটেই বৃদ্ধি পায়নি।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ দম্পতি মাসে মাত্র একবার যৌনমিলনে আবদ্ধ হন। তাই জাপানের এখনই এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাশিয়া : ইতোমধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দেশের জনসাধারণকে যৌনতায় আসক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ায় একটা বড় অংশের যুবকরা মদ্যপ হয়ে উঠছেন। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণে অনেক সময় এইচআইভি-তে আক্রান্তও হচ্ছেন। নারীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা কমছে। ফলে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে মানুষকে ভালবাসায় ফেরাতে মিউজিসিয়ানেরও ব্যবস্থা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট।

রোমানিয়া : এক যুগ ধরে এই দেশের জনসংখ্যার হার বেশ কম। ষাটের দশকে সন্তানহীন দম্পতিদের উপর জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, দম্পতিরা ভবিষ্যতের জন্য শ্রমিক দিয়ে না যেতে পারলে অর্থ দিয়ে যেতে হবে। আশির দশকে স্ত্রী-রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে কোনোভাবেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়নি।

ডেনমার্ক : ডেনমার্কের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আবার আরেক ধরনের নিয়ম চালু করেছিল সেখানকার প্রশাসন। বলা হয়েছিল, নিজের জন্য না হলেও ডেনমার্কের ভবিষ্যতের জন্য সন্তানের জন্ম দিতে হবে। এমনকী একটি ট্যুরিজম কোম্পানি অফার দিয়েছিল, কোনও অন্তঃসত্ত্বা নারী তাদের মাধ্যমে ট্যুর বুক করলে, সেই সন্তানের প্রথম তিন বছরের সব খরচ দেবে ওই কোম্পানি। যা নিয়ে প্রশ্নচিহ্নও তৈরি হয়েছিল।

সিঙ্গাপুর : বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মের হার এই দেশে। সেই কারণেই এখানে কাপলদের জন্য ন্যাশনাল নাইটের মতো ইভেন্টের আয়োজন করে সে দেশের প্রশাসন। কাপলরা যাতে নির্বিঘ্নে যৌনমিলন ঘটাতে পারে, তার জন্য সিঙ্গল রুমের ব্যবস্থাও করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া : এই দেশও ভুগছে সেই একই সমস্যায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় মাসের একটি বুধবার সব অফিস সন্ধ্যা ৭টাতেই বন্ধ করে দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছিল। সেই সময়টিকে ‘ফ্যামিলি ডে’ বলে চিহ্নিত করা হত। দম্পতিদের যৌন মিলনে উৎসাহী করে তুলতেই এমন উদ্যোগ।

ইতালি : উন্নত এই দেশেও মানুষের মধ্যে যৌনতার উৎসাহ কম। কাজ এবং ডিজিটাল জীবনেই বেশি ব্যস্ত সেখানকার মানুষ।

ভারত : এই নামটি দেখে বিস্মিত হওয়ারই কথা। কারণ ভারত যে অতিরিক্ত জনসংখ্যায় ভুগছে, সে বিষয়টি সকলেরই জানা। তাহলে রিপোর্টে ভারতের নাম কেন রয়েছে? নাহ! সার্বিকভাবে যৌনতা নিয়ে এ দেশে কোনও সমস্যা নেই। তবে যৌনতা নিয়ে রাখঢাকের কারণে পারসি সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মের হার কমছে। সেই কারণে সমীক্ষা পারসিদের আরও যৌনতায় আকৃষ্ট হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *