ব্রেকিং নিউজ

বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শাহেদ পারভেজ স্যার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) এর পদোন্নতি লাভ

বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শাহেদ পারভেজ স্যার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) এর পদোন্নতি লাভ করেছেন। সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপ-সচিব দেওয়ান মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করে আগামী ১২ এপ্রিল এর মধ্যে তাকে পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের কথা উল্লেখ করেছে।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদ পারভেজ স্যার গত ২০১৫ সালের ৪ জুন দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর এই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। উপজেলায় যোগদানের পরই আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই উপজেলায় বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং প্রতিরোধ করার ঘোষনা দিয়ে কর্মসূচি হাতে নেন। কর্মসূচিটি সফলের লক্ষে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং প্রতিরোধে সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল নং দিয়ে ব্যানার, ফেষ্টুন লটকিয়ে দেন। যা আজও সকল প্রতিষ্ঠানে শোভা পাচ্ছে। স্বল্প সময়ে কর্মসূচিটি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগায়। সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাচিত হন। তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) আশার আলো বিদ্যালয়, ছিন্নমূল ঝড়ে পড়া শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান পৃষ্টপোষকতার দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যালয় ২ টি’র কর্মকান্ড পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) আশার আলো বিদ্যালয়ের সফলতায় তিনি আবারও শ্রেষ্ঠ ইউএনও হিসেবে নির্বাচিত হন। ভিক্ষুক মুক্ত উপজেলা করার লক্ষে তিনি পরিকল্পনা হাতে নেন। নিজের ব্যক্তিগত এবং পরিষদ থেকে অর্থ নিয়ে সেই সাথে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে আর্থিক অনুদান গ্রহণ করে তহবিল গঠন করেন। ভিক্ষুকদের শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সহ দোকান তৈরি করে দেন। একই ভাবে অনেক শারীরিক সুস্থ ভিক্ষুকদের অটোভ্যান প্রদান করেন এবং নারী ভিক্ষুকদের মাঝে ছাগল বিতরণ করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। উপজেলার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনার অবদানও কম নয়। উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী ফায়ার স্টেশন নির্মানে তিনি অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন। যা বর্তমানে নির্মানাধীন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সহ জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অনুসারে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের নামকরণের ফলক নির্মাণ তার সফলতার অন্যতম এক দৃষ্টান্ত। উপজেলার সিঅওফিস বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় যানজট নিরসনে ফোরলেন রাস্তা নির্মান সহ যাত্রি ছাউনি নির্মানের ক্ষেত্রেও পৌরসভাকে সার্বিক সহযোগীতায় তার অবদান ছিলো প্রশংসনীয়। সৎ, কর্মঠ, কাজ পাগল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদ পারভেজ এর বিদায়টি তাই উপজেলার জন প্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের মানুষ সাধারণ ভাবে মেনে নিতে পারছে না। তাইতো গত ৯ এপ্রিল সোমবার উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাটি আর আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা থাকে না। অনেকটা ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা সভায় পরিনত হয়। সবারই বক্তব্যেই ছিলো উপজেলাবাসী একজন সুযোগ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হারাচ্ছে। এরপরও উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের মূল্যায়ণের স্বীকৃতি স্বরূপ পদোন্নতি লাভ করায় সবাই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *