বগুড়ার শেরপুরে শিক্ষকদের পছন্দে নিষিদ্ধ গাইড পড়তে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা !

 

আবু জাহের, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুরে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল প্রধান এবং মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি মোটা অংকের টাকা নিয়ে নির্ধারিত প্রকাশনির সহায়ক নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে লেখাপড়ার প্রকৃত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠার পাশাপাশি ওই সকল গাইড কিনতে অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে।
জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১১০টি কিন্ডার গার্টেন, ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪২টি মাদ্রাসাসহ ২০০র অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রধানদের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের সহায়ক ও নিষিদ্ধ গাইড বই কেনার জন্য নির্ধারিত প্রকাশনীর তালিকা ধরিয়ে দেয়া হয়। যদি কোন শিক্ষার্থী নির্ধারিত তালিকার বাইরে অন্যকোন প্রকাশনার গাইড ক্রয় করে তাহলে তাকে আবারো নতুন করে গাইড কিনতে বাধ্য করা হয়। শেরপুর উপজেলার ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন শেরপুর উপজেলা শাখার আওতায় মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারি কল্যান সমিতির অর্ন্তভুক্ত ২২টি এবং সাবেক মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ এর অধিনে ২০টি মাদ্রাসায় প্রকাশনীর লোকজন প্রতি বছর মোটা অংকের টাকা ডোনেশন দেয়া হয়। এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নেতাদের পছন্দের পাঞ্জেরী, লেকচার, অনুপম, জুপিটার, আল ফাতাহ্ ও আল আরাফা প্রকাশনীর নিষিদ্ধ গাইড বই। এদিকে এনসিটিবি প্রণীত ও অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তকের বাইরে এসব সহায়ক ও নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। উপজেলার শেরুয়া এলাকার অভিভাবক রফিকুল ইসলাম জানান, তার দুই সন্তানের জন্য গাইড বই কিনতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা। দহপাড়ার শরিফ আহম্মেদ জানান, তার ছেলের জন্য সহায়ক বই কিনতে ৩০০ টাকা লেগেছে। হাসপাতাল রোড এলাকার আশরাফ আলী বলেন, আমার মেয়ের জন্য পাঠ্যবইয়ের বাইরে স্কুল থেকে নির্ধারিত প্রকাশনীর বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ, সাধারণ জ্ঞান ও চিত্রাঙ্কন খাতা কিনতে সাড়ে ৭০০ টাকা লেগেছে। তারা জানান, নির্ধারিত প্রকাশনীর সহায়ক বই ও নিষিদ্ধ গাইড না কিনলে সংশ্লিষ্ট স্কুলে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। অভিযোগ আছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকাশনীর নিষিদ্ধ গাইড কিনতে বাধ্য করছেন শিক্ষকরা। স্কুল পর্যায়ে জুপিটার, পাঞ্জেরী, লেকচার, অনুপম, ফুলকলি, আল আমিন প্রকাশনী এবং মাদ্রাসায় আল-ফাতাহ্, আল-বারাকা, মিনার প্রকাশনীসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে তালিকা ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ সব প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা স্কুল-মাদ্রাসার প্রধান এবং সমিতির নেতাদের বিভিন্ন ধরনের উপঢৌকন ও মোটা অংকের টাকা দিয়ে প্রকাশনীর সহায়ক ও নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রির ব্যবস্থা করেন। অভিভাবকরা জানান, যেখানে সরকার সহায়ক বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করছে, সেখানে সহায়ক ও নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে ১ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা লাগছে। সাধারণ ও নি¤œমানের ছাপা, ভুলে ভরা চটি আকারের সহায়ক বইগুলোর একেকটির দাম ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা। যা সাধারনভাবে কিনতে ৩০ থেকে ৪০ টাকার বেশি হবেনা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান খান জানান, এনসিটিবি প্রণীত ও অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তকের বাইরে কোনো বিদ্যালয় যদি পাঠ্যসূচিতে অতিরিক্ত কোনো পুস্তক অন্তর্ভুক্ত করে বা শিক্ষার্থীকে তা ব্যবহারে বাধ্য করে তবে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন সমিতির আওতাভুক্ত কয়েকজন সুপার বলেন, সমিতি থেকে আমাদের যে সকল গাইড ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে বলা হয়েছে সেগুলোই আমরা তাদের কিনতে বলেছি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *