‘প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনী নামানো হবে’

:প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, আসন্ন দুই উপনির্বাচন এবং কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী নামানো হবে। আর এসব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থার ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন সিইসি নুরুল হুদা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এই বৈঠক করেন সিইসি। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচনে আপাতত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে তারা সব সময় প্রস্তুত থাকবেন। প্রয়োজন হলে তাদেরকে তাৎক্ষণিক নামানো হবে।’

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় শূন্য হওয়া আসনটিতে ভোট হবে আগামী ২২ মার্চ। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি। আর প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়ায় সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনে ভোট হবে ৩০ মার্চ। সেখানে এখনও প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়নি। একই দিনে ভোট হবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।

এই তিন নির্বাচনী এলাকার মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কুমিল্লায়। কারণ, দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি অন্য দুটি এলাকায় প্রার্থী দেয়নি।
সিইসি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে আমাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন। যারা এখানে কর্মকর্তারা এসেছেন তারা বলেছেন এই নির্বাচন কমিশনের উপরে যেনো আস্থার একটা ক্ষেত্র তৈরি হয় তা এই নির্বাচন থেকে বেরিয়ে আসবে।’

সিইসি বলেন, ‘ভোটাররা যাতে নির্বঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে এবং বাড়িতে গিয়ে নিরাপদে থাকতে পারেন বৈঠকে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকবেন তারা কোনো অনিয়ম করবেন না। আর করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, যদি কারো নামে আগে থেকে কোনো মামলা না থাকে, তাহলে নতুন করে কাউকে হয়রানি করা হবে না।

সিইসি বলেন, আমাদের দেশে একসঙ্গে তিনশ’ আসনের নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়ার নজির রয়েছে। তাই মাত্র ২/৩ নির্বাচনে আশংকার কিছু নেই। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে এবং বাড়িতে গিয়ে নিরাপদে থাকতে পারেন বৈঠকে এ বিষয়ে কথা হয়েছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *