প্রথমবারের মতো ডুবোজাহাজ অন্তর্ভুক্ত হলো বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়

স্টাফ রিপোর্টার : প্রথমবারের মতো ডুবোজাহাজ সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত হলো বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। চীন থেকে আনা ‘জিরো থ্রি ফাইভ জি’ টাইপ দুটি ডুবোজাহাজ অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে নতুন যুগ শুরু হলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে।রবিবার সকালে চট্টগ্রামে নৌ ঘাঁটি ঈশা খাঁয় এই সাবমেরিন দুটির কমিশনিং করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি সাবমেরিন দুটির নাম রাখা হয়েছে বাংলায়। এর একটি ‘বানৌজা নবযাত্রা’ এবং অন্যটি ‘বানৌজা জয়যাত্রা’।নবযাত্রার অধিনায়ক কমান্ডার কে এম মামুনুর রশীদ এবং জয়যাত্রার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাজহারুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কমিশনিং ফরমান নেন। পরে ক্রুরা সাবমেরিনে ওঠেন

গত ২২ ডিসেম্বর সাবমেরিন দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে চীন থেকে। এগুলো দৈর্ঘ্যে ৭৬ মিটার, প্রস্থে ৭.৬ মিটার। টর্পেডো ও মাইনে সজ্জিত জাহাজ দুটি ঘণ্টায় ১৭ নটিক্যাল মাইল বেগে ছুটতে পারে। এগুলো দুটি টর্পেডো ও মাইন দ্বারা সু-সজ্জিত যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনে আক্রমণ করতে সক্ষম।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের ঘোষণা দেন। আর এ জন্য চীনের সঙ্গে ২০১৪ সালে চুক্তি করে সরকার। আর সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য দুদেশের নৌবাহিনীর অফিসার ও নাবিকদের যৌথ তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ ও সি ট্রায়ালও সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

রীতি অনুযায়ী নতুন যে কোনো যুদ্ধজাহাজের মতোই সাবমেরিন দুটির নামফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। আকাঙ্ক্ষিত এই মুহূর্তিটি স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক আয়োজন করা হয় নৌ ঘাঁটিতে। জাহাজ থেকে বেলুন উড়িয়ে ও রঙিন আতশবাজি পোড়ানো হয় সেখানে। বাজানো হয় জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় সাবমেরিনে।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জনের পরিচিতিমূলক একটি প্রদর্শনী দেখেন। এরপর সাবমেরিন দুটিকে স্বাগত জানিয়ে তোপধ্বনি করা হয়।এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান নিজামউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার এম আবু আশরাফ তাকে স্বাগত জানান।সাবমেরিন দুটির কমিশনিং এর পর সেখানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সারা বিশ্বে শান্তি বজায় রাখার পক্ষে। কিন্তু কোনো দেশের দ্বারা আক্রান্ত হলে তা প্রতিহত করার সক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে। এ জন্যই সাবমেরিন দুটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সংযোজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সংযোজন করা হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *