নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রী যাবেন আগামীকাল

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বহুতল খাদ্য গুদাম (মাল্টি ষ্টোরেড ওয়্যারহাউস)। জাপান সরকারের সহযোগিতায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তহারে নির্মিত দেশের প্রথম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ২৫ হাজার টন ধারণক্ষমতার এই খাদ্য গুদামটি আগামীকাল রবিবার উদ্বোধন করতে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তহারে আসবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খাদ্যগুদামটি নির্মিত হওয়ায় খুশি স্থানীয় চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

সান্তাহার সাইলো চত্বরে প্রায় ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় বছর ধরে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের প্রথম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ২৫ হাজার টন ধারণক্ষমতার এই খাদ্য গুদাম। শস্য সংরক্ষণে সর্বাধুনিক ওয়্যারহাউসটি চলবে সৌরশক্তির মাধ্যমে। নতুন মজুদাগারটি মূলত চাল রাখার জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য বিভাগের হিসাবে উত্তরাঞ্চলে (রাজশাহী বিভাগ) সরকারিভাবে শস্য সংরক্ষণে চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩০লাখ টন ধারণক্ষমতার মজুদাগার। কিন্তু এর বিপরীতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মোট খাদ্য গুদাম গুলোর ধারণ ক্ষমতা মাত্র ১৯লাখ টন। এতে সরকারিভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সময় বিশেষ করে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের সময় ভীষণ বিপাকে পড়তে হয়।

সান্তাহার সাইলোর সুপারিনটেনডেন্ট ইলিয়াস হোসেন জানান, ওয়্যার হাউসটির মূল বা প্রথম পার্টের কাজ সম্পন্ন করেছেন জাপানি টেকনিশিয়ানরা। ছাদে বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল। গুদামের ভেতরে স্থাপনকৃত এসিসহ অন্যান্য মেশিনগুলোর সবই অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী। এখানে খাদ্য শস্য থাকবে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও আদ্রতায়। ফলে নষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন গুণগত মানের দিক থেকে ভালো থাকবে। গুদাম নির্মাণকাজের দ্বিতীয় অংশ হিসেবে রেললাইন স্থাপন, আনুসঙ্গিক রাস্তা, স্টাফ কোয়াটার নির্মাণ করা হয়েছে। গুদামটি চালু হলে সরকারি মজুদ সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি চাল উৎপাদনকারী ও চাষিরা লাভবান হবেন।

এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, শুধুমাত্র গুদাম সংকটের কারণে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম ভীষণভাবে বিঘিœত হয়। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সংগ্রহ অভিযান শতভাগ শেষ করতে পারে না খাদ্য বিভাগ। অনেক ক্ষেত্রে অধিক সময় লেগে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের দরের সঙ্গে সরকারি দরের মিল থাকে না। ফলে সংগ্রহ কার্যক্রম বাধা গ্রস্থ হয়।

স্থানীয় মফিজ উদ্দিন অটোরাইস মিলের মালিক তৌফিকুল ইসলাম বাবু জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে স্থান সংকট পুরোনো সমস্যা। কখনো কখনো এটি প্রকট আকার ধারণ করে। এতে পণ্য নিয়ে গুদামের সামনে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। দিনের পর দিন সিরিয়ালে আটকা পড়ে থাকে পণ্যবাহী গাড়িগুলো। ফলে সরকারকে খাদ্যশস্য দিতে গিয়ে লোকসানে পড়তে হয়। তিনি আরো জানান, সান্তাহারের ওয়্যারহাউসটি বেশ উপকারে আসবে। এটি চালু হলে অন্তত বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও নাটোর জেলার সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের ভোগান্তি দূর হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক জামাল উদ্দিন জানান, বর্তমান সরকার যেভাবে গুদাম সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রেখেছে, তাতে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী স্থান পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, সান্তাহারের নবনির্মিত ওয়্যারহাউসটি রাজশাহী অঞ্চলে সরকারি খাদ্য মজুদে বেশ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *