ধুনটে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ভ্রুন হত্যার অভিযোগ

 

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি.
বগুড়ার ধুনটে মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে সাগরিকা খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে গর্ভের ভ্রুন হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত ওই গৃহবধূ বর্তমানে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

নির্যাতিত গৃহবধূ’র পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আনারপুর গ্রামের মোজা প্রামানিকের ছেলে এনামুল হকের সাথে দেড় বছর আগে বেলকুচি গ্রামের প্রয়াত রফিকুল ইসলামের মেয়ে সাগরিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মারধর করতে থাকে স্বামী এনামুল হক। সম্প্রতি সাগরিকা খাতুন গর্ভ ধারন করেন। যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় সন্তান নিতে অস্বীকার করেন এনামুল হক। একারনে গত ৪ মার্চ সাগরিকাকে অমানুষিক নির্যাতন করে তার স্বামী এনামুল ও ননদ মর্জিনা। এক পর্যায়ে ঘরে আটকে রেখে সাগরিকাকে গর্ভের ভ্রুন নষ্ট করতে জোড়পূর্বক বিভিন্ন ঔষধ খাওয়ানো হয়। গত কয়েক বিভিন্ন ঔষধ খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে সাগরিকা। খবর পেয়ে রোববার পুলিশ ওই গৃহবঁধুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করেছে।

নির্যাতিত গৃহবধু সাগরিকা খাতুন জানান, তার স্বামী এনামুল হক যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় গর্ভের সন্তান মেনে নিতে পারেনি। তাকে ঘরে আটকে রেখে পিটিয়ে অবৈধ গর্ভপাতের জন্য বিভিন্ন ঔষধ খাওয়ায়। এতে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তবুও তার চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বেলকুচি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফৌজিয়া হক বিথি জানান, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর সাগরিকাকে লালন পালন করেছেন। অনেক টাকা খরচ করে তাকে বিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মাদক ও জুয়ার টাকার জন্য তাকে মারধর করতে থাকে তার স্বামী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইকবাল হোসান সনি বলেন, সাগরিকা খাতুনের গর্ভপাত করা হয়েছে। কিন্তু গর্ভপাতের কাজটি সম্পন্ন না হওয়ায় সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। একারনে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে ওই গৃহবঁধুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *