টেকনাফের আনসার ক্যাম্পে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করে দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে র‌্যাব-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার টেকনাফ রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের আনসার ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব। বুধবার সকালে বান্দরবন নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু পশ্চিমকুল গহীন অরন্যে থেকে লুট হওয়া ৬ টি অস্ত্র (এসএমজি ও রাইফেল) উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব পর পর দুই বার অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত ১১ টি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, টেকনাফ আনসার ক্যাম্পে হামলা ও অস্ত্র লুটের অন্যতম হোতা মিয়ানমার আকিয়াব জেলার মংডু থানার নুর আলমকে মঙ্গলবার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতার নুর আলমসহ র‌্যাব-৭ এর একটি টিম নাইক্ষ্যংছড়ির গহীন অরন্যে অভিযান চালায়। অভিযানে র‌্যাব ৬ টি অস্ত্র (এসএমজি ও রাইফেল) উদ্ধার করে।
বুধবার বিকালে অস্ত্র উদ্ধার মিয়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু পশ্চিমকুল গহীন পাহাড়ী এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমদ ও আনসার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন।
প্রেসব্রিফিং কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যম্প থেকে আনসার ব্যারাক থেকে লুন্ঠিত এগার অস্ত্র দু:সাহসিক অভিযানে উদ্ধার করে র‌্যাব দেশকে একটি বড় ধরণের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছে। প্রধানমন্ত্রী মানুষকে ভালবাসেন, মানবতাকে সম্মান করেন। তাই বনজসম্পদ ধ্বংস ও পরিবেশ এবং আইনশৃংখলা বিনষ্ট করছে জেনেও মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বসম্মানে নিজ দেশে তাদের ফিরিয়ে দেয়ার। মানবিকতা ও শৃংখলা বজায় রাখতেই রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেই রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচর পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৩ মে ভোর রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়ার মুচনী এলাকার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় এক দল দূর্বৃত্ত। এতে নিহত হন আনসার ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আলী হোসেন। লুট করা হয় ১১ টি বিভিন্ন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৭০ টি গুলি।
বুধবার বিকেল পৌনে তিনটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেস ব্রিফিং শুরু করেন। এসময় র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমদ, আনসারের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকতা মো. মঈন উদ্দিন, থানার ওসি আবুল খায়েরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। লুণ্ঠিত সকল অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন মন্ত্রী।
র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. কমান্ডার আশিকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র লুটের ঘটনার মূল হুতা রোহিঙ্গা ডাকাত নুরুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়েই র‌্যাব সদস্যরা অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে। এবং বুধবার সকালে বাকি ৬টি অস্ত্র (এসএমজি এবং রাইফেল) উদ্ধার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭)। অস্ত্র লুটের মূল নায়ক নুরুল আলম মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু থানার বাসিন্দা।
এ ঘটনার পরদিন অজ্ঞাত পরিচয় ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে আনসার ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ।
তবে সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি ৩ জনকে আটক করে ১টি এসএমজি, ৬টি ম্যাগাজিন, ১টি চাইনিজ রাইফেল ও ২টি এম-টু চাইনিজ রাইফেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। বাকি ৬টি অস্ত্র বুধবার উদ্ধার করতে পেরেছে র‌্যাবের চৌকষ দল।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *