ছুড়িকাঘাতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, উত্তাল শিবগঞ্জ, আটক ২

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সংসারদিঘী দিঘীর দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গত রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের ছুড়িকাঘাতে যুবলীগ নেতা ফারুক নিহত হয়েছে, হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে এলাকাবাসী পুলিশ ব্যষ্টনী ভেঙ্গে উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অবস্থা বিরাজ করছে বিহার ইউনিয়ন তথা গোটা শিবগঞ্জে। এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই জনকে আটক করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানা যায়, একটি প্রভাবশালী মহলের সন্ত্রাসী বাহিনীর ছুরিকাঘাতে উপজেলা যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক (২৫) নামের এক যুবক নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের সংসারদীঘি এলাকায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চড়ম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত ওমর ফারুক উপজেলার সংসারদীঘি (দোবিলা) গ্রামের মৃত দেলওয়ার হোসেনের ছেলে। এঘটনায় সোমবার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করলে প্রথমে বগিলাগাড়ী চার মাথায় পুলিশ বাধা দেয়, বাধা উপেক্ষা করে মিছিলটি নাগরবন্দরে পৌছলে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ফোর্স নিয়ে আবারো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। জনতার ¯্রােত পুলিশের বাধা উপক্ষো করে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ এর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি শেষে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষিপ্ত জনতাকে শান্তনা দিয়ে হত্যাকারীদের বিচারের আশ্বাস প্রদান করে এক সংক্ষিপ্ত পথ সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা, ওসি শাহিদ মাহমুদ খান। এসময় উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আজিজুল হক বলেন, হত্যাকারী যেই হোক না কেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। ওসি শাহিদ মাহমুদ বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আমরা হত্যাকারীকে গ্রেফতার করব, এজন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলার রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু সংসারদিঘী বিতর্কিত ৩৬৫বিঘা আয়তনের বিশাল দিঘীটি বন্দবস্থ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মৎস্য চাষ করে আসছিলেন। পরে এলাকাবাসী নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হবার পর ওই দীঘির কর্তৃত্ব নিজেদের অনুকুলে নিয়ে মাছ চাষ শুরু করে। ফলে এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ দেখা দিলে বিষয়টি উচ্চ আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়ায়। আদালতে মামলা চলাকালীণ সময়ে রবিবার বিকালে চেয়ারম্যান রিজু ও বিহার ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে এলাকার ওই বিতর্কিত দীঘির দখল নিতে যায়। এসময় চেয়ারম্যান রিজু ও মহিদুলের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য শালিসে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুই চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে দুপক্ষের লোজজন সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে, একপর্যায়ে সন্ত্রসীদের ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক গুরুতর আহত হয়। এখবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুই চেয়ারম্যন বাহিনীর লোকজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে মূমুর্ষ অবস্থায় রক্তাক্ত ওমর ফারুককে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। ঘটনায় আরেক যুবলীগ নেতা মেহেদুল ইসলাম আশিক কে প্রায় ১২ ঘন্টা নিখোজের পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে আহত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান জানান ঘটনা ঘটার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। রাতভর অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই জন করে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এঘটনায় থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *