চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে ২৫০ টাকার গোশত ৪৫০ টাকা!

দেশ কি চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত! চাঁদাবাজরাই কি সব? তাদের দৌরাত্ম্য কি অবাধে চলবেই? তাদের রোখার মতো কেউ কি সরকার ও প্রশাসনে নেই? থাকলে সে দায় নিরপরাধ ক্রেতাদের বহন করতে হবে কেন?

ঢাকার গোশত ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে গত বছর সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছিল, চাঁদাবাজ ও ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য না থাকলে তারা ২৫০ টাকা কেজি দরে গরুর গোশত বিক্রি করতে পারবে। তাদের ওই বক্তব্য কেউ আমলে নিয়েছে বলে মনে হয় না।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার গোশত ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে আবারও সংবাদ সম্মেলন করা হয়। চাঁদাবাজ ও ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা পেতে তারা কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা গোশত বিক্রি বন্ধ রাখে।

ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রায় এক ও অভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে। সেখানেও তারা বলে, চাঁদাবাজ ও ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলে তারা ৩০০ টাকার নিচে গরুর গোশত বিক্রি করতে পারবে। অবশেষে তারা প্রশাসনের আশ্বাসে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে; কিন্তু যে লাউ সে কদু।

গোশত ব্যবসায়ী সমিতি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে গোশত বিক্রি শুরু করে; কিন্তু দাম আগের চেয়েও চড়া। বাজারে ৪৫০ টাকার নিচে গরুর গোশত মিলছে না; বরং কোথাও কোথাও ৪৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। বাস্তবতা বলে দিচ্ছে চাঁদাবাজ-ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য থামেনি।

একটি দেশের খোদ রাজধানীতে ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কারণ উল্লেখ করে দুবার তাদের সমস্যা তুলে ধরেছে। তুলে ধরেছে এর ক্ষতিকর ও উপকারী দিক। এর পরও সমস্যাটির সমাধান যে হয়নি বা ঘটেনি, তা তো স্পষ্ট। জনস্বার্থ এখানে চরমভাবে উপেক্ষিত।

সরকার ও প্রশাসন যদি কতিপয় দুষ্কৃতকারীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিত; তাদের কাছে যদি ব্যবসায়ীদের মতো জিম্মি না হতো, তাহলে ব্যবসায়ীরা অধিক দামে গোশত বিক্রি করার সাহস পেত না। আর নিরুপায় ক্রেতারাও বাধ্য হতেন না বেশি দামে গোশত কিনতে।

চাঁদাবাজদের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা বারবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গোশত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরার পরও কেন দায়িত্বশীলদের টনক নড়ছে না, তা বোধগম্য নয়। চাঁদাবাজরা কি সরকার ও প্রশাসনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী- এ প্রশ্ন ক্রেতা সাধারণের।

চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এ কাজটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা দরকার। গুটি কয়েক সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের চেয়ে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে পথে পথে চাঁদাবাজি ও ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সাঁড়াসি অভিযান সময়ের দাবি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *