ইডেন-ছাত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী গ্রেপ্তার

টোয়েন্টি ফোর নিউজ একাত্তরঃরাজধানী ঢাকার ইডেন কলেজের ছাত্রী শরীফা সুলতানা ওরফে পুতুল (২২) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রায় ঘোষণার ১০ মাস পর স্বামী মো. মাহামুদুল আলম শিকদারকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৬) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার সাতক্ষীরা জেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। পরে মাহামুদুলকে বাগেরহাটের মোল্লাহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়। আসামি মাহামুদুল মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর দৈবকান্দি গ্রামের মৃত সামছুল আলম শিকদারের ছেলে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শরীফা সুলতানা ওরফে পুতুল ঢাকার ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস (সম্মান) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। স্বামী মাহামুদুল ছিলেন শরীফার বড় বোন সাগরিকার দেবর। বোনের বিয়ের পর মাহামুদুলের সঙ্গে শরীফার পরিচয় হয় একং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে ২০১৩ সালের ১০ মে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়।

ত্রীকে সন্দেহের জের ধরে বিয়ের মাত্র তিন দিন পর ১৩ মে গভীর রাতে মাহামুদুল নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে শরীফাকে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর রাতেই তিনি মোল্লাহাট থানায় গিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন এবং কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। রাতে পুলিশ মাহামুদুলের শয়নকক্ষ থেকে শরীফার লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পরদিন নিহত শরীফার বাবা মো. আবু দাউদ মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি তখন দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এ মামলায় ২০১৬ সালের ১৩ মে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান খান আসামি মাহামুদুল আলম শিকদারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। বিচার চলাকালে জামিনে ছিলেন মাহামুদুল। রায় ঘোষণার দিন আদালতে উপস্থিত না হয়ে তিনি আত্মগোপন করেন।

র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মাহামুদুল আলম শিকদার সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা থেকে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। র‌্যাবের গোয়েন্দারা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সাতক্ষীরা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয় এবং গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *