আক্রান্ত হলে সমুচিত জবাব

সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিতে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন : শেখ হাসিনা

সাবমেরিন ঘাঁটি ‘বিএনএস শেখ হাসিনা’ হচ্ছে
চট্টগ্রাম ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না। তবে কেউ আক্রমণ করলে যেন সমুচিত জবাব দিতে পরি সে জন্যই সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করছি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতির আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আমরা কোনোদিন আপোস করিনি; ভবিষ্যতেও করবো না। দেশের প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করতে যা যা করা দরকার তার সবকিছুই করবো। কোনো অবস্থায় আমাদের সার্বভৌমত্ব বিঘিœত না হয় সেজন্য একটি শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী দরকার। বহিঃশত্রুর আক্রমণের সমুচিত জবাব দিতে বাংলাদেশ সব সময়ই প্রস্তুত। গতকাল চট্টগ্রামের নৌঘাঁটি ঈশা খাঁন নেভাল বার্থে আধুনিক দুই সাবমেরিন ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’র কমিশনিং (উদ্বোধন) অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ ‘জয়যাত্রা’ ও ‘নবযাত্রা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সত্যিকারের ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হলো। বর্তমান সরকারের এটি একটি স্বপ্ন এবং প্রতিশ্রুতি ছিল। ভবিষ্যতে দেশের সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন।
চীন থেকে ক্রয় করা দুই সাবমেরিন উদ্বোধনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম নৌ-ঘাঁটির সাবমেরিন কমিশনিং অনুষ্ঠানে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ তাঁকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনীর প্রধান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। কমিশনিং অনুষ্ঠানে সাবমেরিনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের দালিয়ান লিয়াওনান শিপইয়ার্ড থেকে আসা এবং চীনা নৌবাহিনীর চৌকস প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ঐতিহ্য অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে সাবমেরিন দু’টির নামফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন যুগে পদার্পণের এই মুহূর্তটি উদযাপিত হয় বহরের বিভিন্ন জাহাজ থেকে বেলুন উড়িয়ে এবং রঙিন আতশবাজি পুড়িয়ে। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় এবং সাবমেরিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উদ্বোধনের মাধ্যমেই মূলত প্রতীকী জীবন সঞ্চার করা হয় ডুবোজাহাজ দুটিতে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বানৌজা বঙ্গবন্ধু, নেভাল এভিয়েশনের দু’টি হেলিকপ্টার ও দু’টি এমপিএ এবং দক্ষ নৌ-কমান্ডো দল সোয়াডস-এর অংশগ্রহণে নৌবাহিনীর ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জনের পরিচিতিমূলক একটি নজরকাড়া প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেন। এরপর সাবমেরিন দুটিকে স্বাগত জানিয়ে তোপধ্বনি করা হয়। নবযাত্রার অধিনায়ক কমান্ডার কে এম মামুনুর রশীদ এবং জয়যাত্রার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাজহারুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কমিশনিং ফরমান গ্রহণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে ক্রুরা সাবমেরিনে আরোহণ করেন।
দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ৯৬ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে দেশ সেবার সুযোগ পাই আর তখন থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু। তখন থেকেই আমি নৌবাহিনীকে আধুনিক এবং যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ, বিদ্যমান জাহাজসমূহের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ প্রত্যেকটা বাহিনীর জন্য আমরা আধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করি। জাতির পিতা যে প্রতিরক্ষা নীতিমালা গ্রহণ করেছিলেন তারই আলোকে আমরা ফোর্সেস অব গোল্ড প্রণয়ন করে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপযোগী আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তোলার পদক্ষেপ  হাতে নিয়েছি। আমাদের নৌবাহিনী শুধু আমাদের দেশে না, আজ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তারা টহল থেকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য যে দুটি সাবমেরিনকে আধুনিকায়ন ও সকল ক্রুকে প্রশিক্ষণ প্রধান এবং হস্তান্তর পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে চীন বাংলাদেশের প্রতি যে অকৃত্রিম সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সেজন্য গনচীনের সরকার, নৌবাহিনী এবং সর্বোপরি গনচীনের জনগণকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি জানি সাবমেরিন পরিচালনার কাজটি যেমন ঝুঁকিপূর্ণ আবার তেমনি গর্বেরও বিষয়। আপনাদের প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগ এই কঠিন কাজটিকে আরো সহজ করবে এবং আপনারা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন আল্লাহ্র কাছে আমি সেই দোয়া করি। নবীন ক্রুদের লক্ষ্য হবে সমুদ্রে সফলভাবে সাবমেরিনকে পরিচালনার অভিজ্ঞতা সঞ্চায় করে প্রকৃত অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হওয়া। পাশাপাশি নবগঠিত সাবমেরিন আর্মকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শাখা হিসেবে গড়ে তুলার জন্য যে নীতিমালা অবকাঠামো ও ইকুইপমেন্টের দরকার তা তৈরি করার ক্ষেত্রেও আপনাদের অবদান রাখতে হবে। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে অসীম সাহসের সাথে সাবমেরিন পরিচালনার চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে হবে। আজকে আমি আমাদের সাবমেরিনারদের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন গর্বিত ইতিহাস স্মরণ করাতে চাই। স্বাধীনতা যুদ্ধে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দেশপ্রেমিক ও অকুতোভয় একদল প্রশিক্ষিত সাবমেরিনার। তাদের সফল অপারেশনের ফলে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সর্ববৃহ লাইন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন ত্বরান্বিত হয়। বাঙালি জাতির ইতিহাস বীরের ইতিহাস, কাজেই আমি নিশ্চিত আপনাদের দেশপ্রেম, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে এই সাবমেরিন দুটির সর্বত্র ব্যবহার আপনারা নিশ্চিত করবেন। আপনাদের সকল অপারেশনাল মিশন যেনো সফল হয় সেজন্য সব সময় আমার শুভ কামনা থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ, আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তি চাই। আমরা সকল দেশের সাথে সেই সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমাদের জাতির পিতা যে পররাষ্ট্র রীতিমালা আমাদের দিয়ে গেছেন সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়। আমরা সেই নীতিতেই বিশ্বাস করি। আমরা চাই সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে আমরা আমাদের জনগণের সার্বিক উন্নতি করতে পারি। তবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের যা যা প্রয়োজনীয় তা আমরা সংগ্রহ করব। কারণ এগুলো হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতার সার্বভৌত্বের প্রতীক। আমরা কারো সাথে কখানও কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না। কিন্তু যদি কেউ আমাদের আক্রমণ করে তাহলে আমরা যেন তাদের সমুচিত জবাব দিতে পারি সেই প্রস্তুতি আমাদের সব সময় থাকবে। সে দিকেই লক্ষ্য রেখেই আমরা যা যা করণীয় তা করে যাচ্ছি। আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে এ আঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। মূলত ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই এই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। আমাদের ভ‚খন্ড ব্যবহার করে আমাদের প্রতিবেশী দেশের সাথে অথবা দেশের ভিতরে কেউ যেনো কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে না পারে, তার জন্য আমরা স্থির প্রতিজ্ঞ এবং আমাদের ভূখন্ড আমরা কাউকে এই ধরনের অন্যায় কাজে ব্যবহার করতে দিব না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত এবং সেভাবেই আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের দেশে অভ্যন্তরে কেউ যেনো কোনো রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে না পারে, তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। আর শান্তি বজায় থাকলেই উন্নতি তরান্বিত হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজকে আমার মনে পড়ছে ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারতের যুদ্ধের কথা। ওই যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এরপরে ’৬৬ সালে জাতির পিতা ৬ দফা উপস্থাপন করেন। এই ৬ দফার দাবিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি যাতে হয় তার দাবিটা তিনি করেছিলেন। যার ৬ দফার পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয় অর্জন হয়েছে। আমরা সরকার গঠন করার পর আমাদের যে লক্ষ্য সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। যেমন জাতির পিতা স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সব কাজ করে গিয়েছিলেন। মাঝে মাঝে ভাবলে আমার অবাক লাগে যে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত কাজ তিনি কীভাবে করে যান? তিনি ১৯৭৪ সালে সমুদ্রাঞ্চলবিষয়ক আইন ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস এন্ড মেরিটাইম জোন অ্যাক্ট ১৯৭৪’ এটা প্রবর্তন করেছিলেন। জাতিসংঘ তখনও এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বা অন্তত আন্তর্জাতিক আদালতও তখন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে দূরদর্শিতা সেই দূরদর্শিতার মাধ্যমেই তিনি এই আইন করে যান। আমরা ১৯৯৬ সালে সরকারে এসেই আমাদের স্থল সীমানা এবং সমুদ্র সীমানা নিয়ে কাজ করি। কারণ স্থল সীমানা চুক্তি ইন্দ্রিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করে যান। তিনি সে আইনও করে যান এবং পার্লামেন্টে সে আইন পাসও করে যান। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, ১৯৭৫ সালের পরে যারা ক্ষমতায় আসছিল অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে তারা কখনওই এ বিষয়গুলো উত্থাপন করেনি বা করার সাহসও পায়নি। ১৯৯৬ সালে সরকারে এসেই আমরা আমাদের স্থল সীমানা চুক্তি এবং আমাদের সমুদ্র সীমানায় আমাদের অধিকার রক্ষার কাজ আমরা শুরু করি। মাঝখানে ৭ বছর ক্ষমতায় ছিলাম না। কিন্তু ২০০৯ সালে আবারও ক্ষমতায় এসে আমরা এই উদ্যোগ নেই এবং তা বাস্তবায়ন করি। আজকে আমাদের সমুদ্র সীমানা আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের কাছে আমরা সেই সমুদ্র সীমানা চেয়ে সমুদ্র সীমানার কাজ সমাধান করে আজকে বিশাল সমুদ্র সীমা আজকে অর্জন করেছি। আমাদের একদিকে মিয়ানমার অপরদিকে ভারত। তাদের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হয়েছি। আজকে আমাদের সামনে বিশাল সুযোগ, ওই সমুদ্র সীমায় আমাদের যে সম্পদ রয়েছে এই সকল সম্পদ আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি। পাশাপাশি এই বিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এটাও আমাদের লক্ষ্য। আমরা ইতোমধ্যে বøু-ইকোনোমি অর্থাৎ এই সমুদ্রের সম্পদ কীভাবে কাজে লাগাব সেই পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি। কাজেই আমাদের লক্ষ্য সমুদ্র সীমার যে নিরাপত্তা তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের নৌবাহিনীকে ত্রিমাতৃক বাহিনী হিসেবে আমরা গড়ে তুলেছি। আমরা চাই যে আমাদের দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেভাবে আগিয়ে যাক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি কার্যকর ও ত্রিমাতৃক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০, তা সামনে রেখেই ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে নৌবাহিনীতে সর্বোচ্চসংখ্যক জাহাজ সংযুক্তি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি চীন হতে সংগৃত অত্যাধুনিক দুটি সাবমেরিন নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণে নিজস্ব সামর্থ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। খুলনা শিপইয়ার্ডে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক এলপিসি তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডককে ফ্রিগেট নির্মাণের প্রকল্প বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। সবার প্রয়োজনে বর্তমান সরকারের আমলে সমুদ্রে অপ্রথাগত হুমকি মোকাবেলার জন্য নৌবাহিনী স্পেশাল ফোর্স ‘শ্লোয়ার্ট’ গঠন করা হয়েছে। ত্রিমাতৃক নৌবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে প্রথম ধাপ ছিল নৌবাহিনীর জন্য আকাশের সীমানা উন্মোচন করা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাপ্ট গঠিত হয় নেভাল এভিয়েশন। খুব শিগগিরই এতে আরো মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাপ্ট ও অত্যাধুনিক সমর ক্ষমতাসম্পন্ন হেলিকপ্টর সংযোজন করা হবে সে বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছি। নৌবহর বৃদ্ধির পাশাপাশি নৌবাহিনীর নিজস্ব বিমান ও সাবমেরিন ঘাঁটিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ ইতোমধ্যে আমরা গ্রহণ করেছি। পটুয়াখালী রামনাবাদ এলাকায় বানৌযান শেরে বাংলা নামে নৌবাহিনীর নির্মাণাধীন সর্ববৃহৎ নৌঘাঁটির ভিত্তিপ্রস্তর আমাদের সরকারের সময় স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও নৌবাহিনীতে চাকরিরত কর্মকর্তা ও নাবিকবৃন্দের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যা নিরসনকল্পে এবং প্রশিক্ষণ সুবিধাদি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌ অঞ্চলে একই সাথে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এজন্য নৌবাহিনীর যে ধরনের বাজেট সহায়তা দরকার তা আমরা পূরণ করব। সাবমেরিন সংযোজনের সাথে সাথে নিরাপত্তা রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির জন্য আমরা সাবমেরিনের জন্য পৃথক ঘাঁটি নির্মাণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু করেছি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি সত্যিকারের ত্রিমাতৃক নৌবাহিনীতে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি আমি আপনাদের দিয়েছিলাম আজকে সেই প্রতিশ্রুতি আমরা পূরণ করলাম। সেজন্য আল্লাহর কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। ইতোমধ্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনেক কাজ আমরা করে যাচ্ছি। দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাবে। বিশ্ব সভায় বাঙালি মাথা উঁচু করে চলবে; বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে চলতে পারবে। কারণ আমরা চাই যে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। আমি নৌবাহিনীর সকল সদস্যকে, সেই সাথে সাথে আমাদের সকল সশস্ত্র বাহিনীর অন্যান্য যারা এখানে আছেন বা আমাদের দেশের জনগণ সবাইকে আমি একটি কথা বলতে চাই, আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী একটি জাতি। জাতির পিতার নেতৃত্বে বিজয় অর্জন করে আমরা স্বাধীন একটি দেশ পেয়েছি। তাই কারো কাছে মাথা নিচু করে নয়; বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে আমরা চলবো। সব সময় এই আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে আপনারা কাজ করবেন। নিজেদের ক্ষেত্রে সব সময় এটা মনে রাখবেন যে, আপনারা সেই বিজয়ী জাতি হিসেবে আপনারা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমরা সেভাবেই এ জাতিকে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশে আগামীতে আর দরিদ্র্যও থাকবে না। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগ কমিয়েছি। আমরা নিম্ন-মধ্যবিত্তের দেশে উন্নীত হয়েছি। ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি এখন ৭.১১ ভাগে উন্নীত হয়েছে। রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৮ মার্কিন ডলার। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। সেই সাথে আমি আজকে আমাদের নৌবাহিনী জাহাজ ‘নবযাত্রা’ এবং ‘জয়যাত্রা’র শুভ কমিশনিং ঘোষণা করছি। দেশের সমুদ্র সীমার নিরাপত্তা বিধানে ‘শান্তিতে সমুদ্রে সংগ্রামে দুর্জয়’ এই ত্রিমাতৃক লড়াইয়ে নৌবাহিনীর অভিযাত্রা অভিষ্যতে অব্যাহত থাকে সেই শুভ কামনা আমি করছি।
প্রধানমন্ত্রী অতীত স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্বাধীনতা পাওয়ার পর জাতির পিতা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে নেন একটা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ। সে সময় কোনো রিজার্ভমানি ছিলো না। গোলায় একফোঁটা খাদ্য ছিলো না। রাস্তাঘাট, পোল, ব্রিজ এমনকি আমাদের পোর্ট প্রায় সবই বন্ধ ছিলো। একটা বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা তার উপর বাংলাদেশ ছিলো পাকিস্তানের একটা প্রদেশ। কোনো ধরনের উন্নয়নই এখানে হয়নি। লাখো মানুষ বুভুক্ষ, ক্ষুধার্ত। এক কোটি শরণার্থী মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলো ভারতের মাটিতে। ৪ কোটি মানুষ গৃহহারা হয়েছিলো। পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনে নির্যাতিত কোটি কোটি মানুষ এবং মা-বোন এদের সকলের পুনর্বাসনের কাজ তিনি যেমন একদিকে করেছেন; অপরদিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছিলেন। সেই সময় ১৯৭৪ সালে নৌবাহিনীকে নেভাল এন্ড সাইন প্রদান করেছিলেন এবং দেশের প্রয়োজনীয় আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। জাতির পিতা আমাদের যে পথ দেখিয়ে গেছেন তার সেই দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আজকে এই সাবমেরিন সংযুক্ত করতে পেরেছি। আমি জানি যে, পৃথিবীর মাত্র গুটিকয়েক দেশে সাবমেরিন ব্যবহার এবং পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশ আজকে সেই কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি দেশ যারা আজকে সাবমেরিন পরিচালনা করতে সক্ষম। কাজেই সেই তালিকায় আমরা অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে জাতি হিসেবে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদা পেয়েছি।

সড়কের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ভিআইপি রোড হিসেবে পরিচিত বিমানবন্দর সড়কের বেহাল দশা দেখে তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী। গাফিলতির ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। গতকাল বিকেলে নগরীর পতেঙ্গায় বোট ক্লাবে ওয়াসার ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চট্টগ্রামের ‘সমস্যা’ দূর করতে আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় তৎপর জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের যত উন্নয়ন হয়েছে তা মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলেই হয়েছে। চট্টগ্রামে অনেক সমস্যা আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যা দূর করার চেষ্টা করা হয়। চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা করে দিয়েছি। রাস্তাঘাট যা কিছু উন্নত এগুলো আমরা করে দিয়েছি। তবে আজকে আমি নেভাল থেকে এখানে আসার পথে রাস্তাঘাটের যা অবস্থা দেখেছি তাতে খুব দুঃখ পেয়েছি। আমি জানি না রাস্তার এ দুরবস্থা কেন? বড় বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ব্রিজের কাজগুলোও সম্পন্ন করা হয়নি। কেন এমন হলো তা খুঁজে বের করতে হবে।
২০১৫ সালেও এই রাস্তার একই অবস্থা দেখার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে যখন এসেছি তখনও দেখেছি একই অবস্থা। তখন আমি আমার সামরিক সচিব আবেদিনকে বলেছিলাম- তুমি তো চট্টগ্রামের লোক। রাস্তাঘাটের এ দুরবস্থা  কেন, খবর নাও। তখন সে আমাকে খবর নিয়ে বলেছিল যে, দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। তখন ছিল ২০১৫ সাল। ২০১৭ সালে এসেও  দেখি রাস্তাঘাটের অবস্থা আগের মতোই। আমি মেয়রের কাছে জানতে চাইলাম, কাজগুলো শেষ করা হয়নি কেন? এগুলো তো এলজিইডি এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে। এগুলোয় জাইকা সহযোগিতা করছে। জাইকা কাজ সম্পন্ন করতে দেরি করে এরকমটা আমার জানা নেই। এটা কেন হচ্ছে সেটা অবশ্যই খুঁজে  বের করতে হবে।
ক্ষোভ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের মতো এরকম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কার গাফিলতিতে রাস্তাঘাটের এ দুরবস্থা। রাস্তা খুঁড়ে কেন ফেলে রাখা হয়েছে সেটা আমি জানতে চাই। যে কন্ট্রাক্টর নিয়োগ হয়েছে সে কন্ট্রাক্টর কাজ করেনি কেন? কাজ যদি  শেষ করতে না পারে এভাবে খুঁড়ে রেখে দেয়া হবে কেন? আমি পরেরবার এলে যেন রাস্তার এ দুরবস্থা না দেখি। অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক। সকালে সাবমেরিন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও বিকেলে  বোট ক্লাবের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তবে অনুষ্ঠানস্থলে নগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও মহিউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকা সত্তে¡ও মহিউদ্দিন চৌধুরী তখন নির্বাচনে জিতেছিল। চট্টগ্রামে রাস্তাঘাটসহ যত উন্নয়ন সেগুলো হয়েছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলেই। সেটা বাস্তব কথা। কর্ণফুলী নদী রক্ষায় চট্টগ্রাম থেকে আমরা পানিসম্পদ মন্ত্রী দিয়েছি। কিন্তু সেখানেও কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। কর্ণফুলী নদী যাতে বুড়িগঙ্গার পরিণতি না হয় তা নিশ্চিত করতে যা করণীয় সব করবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি দুর্নীতি করতে, কমিশন খেতে, ব্যবসা করতে ক্ষমতায় আসিনি। উন্নয়ন কাজে কেউ গাফিলতি করলে সহ্য করব না। অপকর্ম যদি কেউ করে, সে যেই হোক তাকে ছাড়ব না। জনগণের সেবা করাই আমার কাজ। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ওয়াসার দৈনিক ১৪ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগারটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পটি বিগত ২৯ বছরে চট্টগ্রাম ওয়াসার বাস্তবায়িত সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
অনুষ্ঠানে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন চট্টগ্রামের পানিবদ্ধতা ও স্যুয়ারেজ সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এ দুই বিষয়ে কোনো আশ্বাস আসেনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, মঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি, দিদারুল আলম এমপি, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল এবং ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম ফজলুল্লাহ।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দর সড়কে ১৫ নম্বর খাল, ৭ নম্বর খাল ও ৯ নম্বর গুপ্তখালে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তিনটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সিটি গভর্ন্য্যন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই তিন সেতু এলাকায় বিকল্প সেতু নির্মাণ করে যান চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে নির্মাণকাজের কারণে বিমানবন্দর সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এসব অংশে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে বিকল্প সেতুর মাটি সরে গিয়ে তা একেবারেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও পড়ে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *